★★১৯৯৯ সালের রক্তঝড়া হামলা★★

ফকরুল এ হামলা করলেও পি. ডব্লিউ. ডি এর অনেক সাবেক ৪র্থ শ্র্রেণীর কর্মচারী পরোক্ষভাবে দ্বায়ী ছিল। পরোক্ষভাবে সেই নির্মম নিরযাতনের সাথে ফকরুলের সমর্থক এই এলাকার পি. ডব্লিউ. ডি এর কয়েকজন সাবেক কর্মচারী (ইয়াকুব, বজলু ও তাহের) জড়িত। কারণ এ ঘটনার পূর্বে আমার মা ও নানী ফকরুলের বিরুদ্ধে তাদের এসোসিয়েশন ক্লাবে বিচার দিয়েও কখনো ন্যায় বিচার পায়নি। আমাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল এখানে ঘর তোলা। অনেকেই বিরুদ্ধে ছিল।








তাদের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটেছিল। তারা বলত এটা পি. ডব্লিউ. ডি এর জায়গা; এখানে কোন পুলিশের লোক ঘর তুলতে পারবেনা। যেসব পি. ডব্লিউ. ডি এর লোক আমাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ভূমিকা রাখেনি সেসব কর্মচারীদের মস্তান-সন্ত্রাসী ছেলেরা চাঁদাবাজি, হুমকি-ধমকি, ঘিরা বেড়া কেটে ফেলা, পাথর মারা আত্মীয় স্বজন আসলে তাদের অবৈধ মহিলা পুরুষ বলে দা লাঠি নিয়ে রেইড দিতে আসা প্রভৃতি নেতিবাচক কারযকলাপ করেছে। কয়েকজন ব্যাতিত প্রায় সকলেই বিরুদ্ধে ছিল। তাদের মধ্যে মাত্র কয়েকজন-  বাতেন, মোল্লা, মোস্তফা নিরপেক্ষ ছিল। কিন্তু তারাও কোনদিন অন্যায়ের প্রতিবাদ করেনি। দিনের পর দিন তারা ফকরুলকে সমর্থন ও প্রশ্রয় দিয়ে বর্বর করে তুলেছিল আমাদের বিরুদ্ধে।  


এভাবেই তাদের ছেলেদের অশিক্ষা কুশিক্ষায় বড় করে তুলেছিল দুই পাহাড়ের মাঝের এই সামাজিক মূল্যবোধহীন অন্ধকার সমাজে। ছেলেদের মানুষ করতে পারেনি বলেই বিভিন্ন সময় দেখেছি কারো লাশ এসেছে এম্বুলেন্সে আর কারো খুন খারাবির ঘটনা দেখেছি পেপার পত্রিকায়।  

আপনি বলবেন অভাবে স্বভাব নষ্ট। দারোয়ান, ইলেক্ট্রিশিয়ান, ড্রাইভার আর পাম্পম্যান এরা আর কত টাকা বেতন পেত? তাহলে আমারতে ভরণপোষণ করার মত বাবাই ছিলনা! মামার সংসারে ছিলাম। মামাও মারা গেছে সেই ২০০২ সালের আগস্টে। আসলে যারা মানুষের  বাচ্চা তারা কখনো পাপের পথে গিয়ে মানুষের উপর অন্যায় অত্যাচার করতে পারেনা। মানুষের উপর অন্যায় অত্যাচার করা পাপ। সেই পাপ নিজেদের উপর এসে পড়ে এক সময়। সেই ’৯৮ সালের সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই ফকরুলের সমর্থক পি. ডব্লিউ. ডি এর কর্মচারী পরিবারগুলোকে আমি ব্লাক লিস্টেই রেখেছি। কারণ তারা অমানুষ, বর্বর।তাদের পরবর্তী বংশধরদের প্রতিও আমার এই ঘৃণা বহাল থাকবে। কেননা ভাইরাস থেকেতো ভাইরাসই জন্মে! তাদের কোনদিন আমি মন থেকে ক্ষমা করতে পারবনা। কারণ তারা কেউই অবুঝ ছিলনা। তাদের ঘরেও মেয়ে ছিল। তারা আমার মাকে কখনো ভাল চোখে দেখেনি। 


(১) ০৩/০৩/১৯৯৯ তারিখে আমাদের বাড়ির পূর্ব দিকের ডি. আই. জি সাহেবের বাংলোর পানির ফাটা পাইপ থেকে পানি আনাকে কেন্দ্র করে ফকরুল ও তার স্ত্রী রড, লাঠি নিয়ে আমার অসহায় মা ও নানীর উপর ঝাপিয়ে পড়ে এ রাস্তাটিতে। মাত্র ৭ বছর বয়সে আমি সেই সন্ত্রাসী হামলা প্রত্যক্ষ করেছি। ভয়ে শুধু চিৎকার করেছিলাম। ২০ হাত দূরে দাঁড়িয়েছিল পি. ডব্লিউ. ডি এর ড্রাইভার ইয়াকুবের ছেলে আবু আর জতিন সরকারের ছেলে রতন। তারা বর্বর ফকরুলকে বাধা দিতে আসেনি। শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখেছিল।  


(২) আমার মায়ের মাথা ফেটে গাল বেয়ে রক্ত ঝড়ে পড়ছিল। রিক্সা দিয়ে মেডিকেলে নিয়ে যাই। মাথার প্রতিটি সেইলাই আর চিৎকারের শব্দে আমি ভয়ে মূর্ছা যাচ্ছিলাম্। মা মরবেনা না বাঁচবে তাও বুঝতে পারছিলাম না। নানীর চোখ লাল হয়ে ফুলে যায়। বুকের উপর বসে ফকরুলের স্ত্রী আলেয়া চোখে আঘাত করে প্রচুর। মেডিকেলের কাগজপত্র এখনো আমার কাছে আছে। 


(৩) বিকালে নুরিসলাম এসপি কেস কালেকশনে আসলে একমাত্র আমি সেই ৭ বছর বয়সে স্বক্ষী দিয়েছিলাম। ফকরুলের সমর্থক পি. ডব্লিউ. ডি কর্মচারীরা কিছুই বলতে আসেনি। এ ঘটনার পর সবাই একরকম লুকিয়েই ছিল বহুদিন। তাদের কাউকেই আমার বাসার আশেপাশে দেখিনি। পরবর্তীতে তারা আমাদের সমর্থন ও ব্যবহার করার কৌ্শল অবলম্বন করে। তাদের স্বার্থে আমাদের ব্যবহার করার চেষ্টা করে। বর্তমান সময়েও তাদের ছেলে-মেয়ে, ঘরজামাই, নাতি পুতিরা আমাদের তাদের স্বার্থে নানাভাবে ব্যবহার করতে চায়। 


(৪) দুই যুগ পরে তাদের অনেকেই না চাইলেও আমাদের পানি দিতে চায়, উপড়ে পড়ে সাহায্য সহযোগিতার কথা বলে। অথচ সেদিন যদি তারা পানি দিত তাহলে আমার মা নানীর উপর ফকরুল (নিরযাতন) করতনা বর্বরভাবে। এখনো সেই সব কর্মচারীদে বংশধর অবৈধভাবে পানি, বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। তারা এখন নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতার কথা বলে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য। তারা এখন মেয়ে কিংবা ভাতিজি, কিংবা নাতনী বিয়ের স্বপ্ন দেখে! এই জায়গাটা অনেক ফরোয়ার্ড হয়েছে কিন্তু মানুষগুলোর ভিতরে কোন পরিবর্তন হয়নি। 


অল্পে তারা তুষ্ট হতে পারেনা। কোন দিক দিয়ে কার জায়গা দখল করে ভাড়া খাবে সে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে। এখানেই অনেকেই আছে যাদের কাজকর্ম কিছু নাই। ধান্দাবাজি তাদের জীবীকা। আবার কেউ কেউ কাজের ফাঁকে পার্ট টাইম জব হিসেবে ধান্দাবাজি করে যাচ্ছে। 


(৫) গত বিশ এত সংগ্রাম এত ঝড় তুফানের মধ্যে লেখাপড়া করলাম তারা দেখেও দেখেনি। কেরোসিন ল্যাম্পে পড়েছি, মাথার উপর চালা ছিলনা। মামা মারা গেল ২০০২ সালে। এ সমাজের কেউ শোকার্ত পরিবারকে শান্তনা দিতে আসেনি। এটা কেমন সমাজ? আমার মামা মারা যাওয়ার পর ২০০৫ সালে মেরামত না করার কারণে আষাঢ় মাসে বৃষ্টিতে আমাদের জড়াঝীর্ণ ঘরের ভারী বর্ষণের সময় চাপা পড়েছিলাম আমি, মা আর নানী। আমার মা পায়ে আঘাত পায়। এ সমাজের একটা মানুষ সেদিন আসেনি আমরা মরে গেছি না বেঁচে আছি দেখার জন্য। তার উপর ফকরুলের স্ত্রী আমাদের পলিথিনের ঝুপড়ি ঘর পি. ডব্লিউ. ডি এর অনেককে দেখিয়ে হেসে বলত, “দেইখছিন্নি ভাইজান বিল্ডিং আরুকগা তুইলছে জালাইল্লার মা। হা হা হা।” 


আরো অনেক ঘটনা আছে যা পোস্টে বলা সম্ভব নয়।


“যখন তারা দেখল তাদের সহযোগিতা ছাড়াই আমরা কষ্ট করে এগিয়ে যাচ্ছি তখন সাহায্য সহযোগিতার নামে ধান্দাবাজি করতে ছুটে আসল। তারা বসন্তের কোকিল। দুঃসময়ে অন্যায় অত্যাচার করেছিল। আমাদের এখান থেকে তাড়ানো জন্য নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল।”

#####